নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : Oct 5, 2025 ইং
অনলাইন সংস্করণ

জেন–জিরা ক্যারিয়ারের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছে কীভাবে

ভয়েস অফ গোপালগঞ্জ ডেস্ক,

একসময় চাকরি মানেই ছিল জীবনের নিশ্চয়তা—ভালো অফিস, ধাপে ধাপে পদোন্নতি আর স্থায়ী কর্মজীবন। কিন্তু সময় বদলেছে, বদলেছে তরুণ প্রজন্মের ভাবনাও। আজকের তরুণেরা, যাদের বলা হয় জেন–জি (Gen Z), চাকরিকে জীবনের কেন্দ্র নয়; বরং শেখা, আত্মতৃপ্তি আর স্বাধীনতা উপভোগের একটি মাধ্যম হিসেবে দেখছে।

রাজধানীর উত্তরার এক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মেহজাবিন রহমান বলেন,

“আমি এমন চাকরি চাই না, যেখানে প্রতিদিন একই কাজ করতে হবে। আমি চাই এমন জায়গায় কাজ করতে, যেখান থেকে প্রতিদিন নতুন কিছু শেখা যায়।”


‘নিশ্চয়তা’ থেকে ‘নতুনত্বে’

আগে মা–বাবারা বলতেন, এমন চাকরি করো যেন সারা জীবন নিশ্চিন্তে কাটে। কিন্তু প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও অটোমেশনের যুগে সেই নিশ্চয়তার ধারণা ভেঙে যাচ্ছে।
ডেলয়েটের এক জরিপে দেখা গেছে, বিশ্বজুড়ে তরুণদের ৭০ শতাংশ প্রতি সপ্তাহে নতুন কোনো দক্ষতা শেখার চেষ্টা করেন। বাংলাদেশেও অনেকেই দিনে চাকরি করে রাতে অনলাইন কোর্সে বা স্বেচ্ছাসেবী কাজে যুক্ত হচ্ছেন।


বাংলাদেশের তরুণেরা কী ভাবছে

বাংলাদেশের জেন–জিরা বুঝে গেছে—একটা দক্ষতা সারাজীবন যথেষ্ট নয়। তারা এখন শেখার ওপর বেশি জোর দিচ্ছে, খাপ খাইয়ে নিচ্ছে পরিবর্তনের সঙ্গে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ অধ্যাপক রিদওয়ানুল হক বলেন,

“ঢাকার বাইরের তরুণেরা এখনো সরকারি চাকরিকে প্রাধান্য দেয়। কিন্তু ঢাকার তরুণেরা করপোরেট ও সৃজনশীল কাজের দিকে ঝুঁকছে। ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীরা তো একেবারেই ভিন্ন পথে—কনটেন্ট রাইটিং, ব্লগিং বা পোষা প্রাণীর চিকিৎসার মতো কাজেও আগ্রহী।”



তিনি আরও বলেন, দেশের স্মার্ট জেন–জি প্রজন্ম কেবল দেশ নয়, বিশ্ববাজারেও নিজের জায়গা করে নিতে চায়। অনেকের মধ্যেই ‘গ্লোবাল সিটিজেনশিপ’-এর ভাবনা গড়ে উঠছে।

একাধিক কাজের জগৎ

নতুন প্রজন্ম এখন একাধিক কাজে অভ্যস্ত। কেউ অফিসের পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিং করে, কেউ কনটেন্ট বানায় বা অনুবাদের কাজ করে।
রাজশাহীর এক ব্যাংকার বলেন,

“দিনে ব্যাংকে কাজ করি, আর ছুটির দিনে ভিডিও এডিট করি। এটা শুধু বাড়তি আয়ের জন্য নয়, বরং একঘেয়েমি কাটানোর জন্যও।”



এই খণ্ডকালীন কাজগুলো শুধু আয়ের উৎস নয়—বরং নতুন দক্ষতা অর্জনের পথ, যা ভবিষ্যতের ক্যারিয়ারে দেবে নতুন দিক।


নেতৃত্বের নতুন ধারা

আগে নেতৃত্ব মানে ছিল নির্দেশ দেওয়া, এখন মানে সহযোগিতা ও নমনীয়তা। তরুণ ব্যবস্থাপকরা সময় নয়, ফলাফলকে গুরুত্ব দেন। তাঁরা বিশ্বাস করেন, তিন–চার বছর পর নতুন জায়গায় অভিজ্ঞতা নেওয়াই উন্নতির কৌশল। এতে তাঁরা শুধু কর্মী নন, বরং বহুমাত্রিক দক্ষতার পেশাজীবী হয়ে উঠছেন।


ভবিষ্যতের প্রস্তুতি

অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সময়েও জেন–জিরা আত্মবিশ্বাসী। তরুণ পেশাজীবী উদয় রহমান বলেন,

“আমরা স্থায়ী কিছু খুঁজি না, বরং পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারি। তাই ভবিষ্যৎ নিয়ে ভয় নেই।”


সম্ভবত এটাই ভবিষ্যতের কর্মজগতের বাস্তবতা—যেখানে সাফল্যের মাপকাঠি পদোন্নতি নয়; বরং পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর ক্ষমতা।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

যেসব কারণে রাগ নিয়ন্ত্রণ জরুরি

1

ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে আটক শহিদুল আলম

2

খালেদা জিয়াকে মধ্যরাতের পর লন্ডনে নেওয়া হবে : ডা. জাহিদ

3

দেশবাসীকে নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান সেনাপ্রধানের

4

উলপুর বাজারে অবৈধ স্থাপনা: নজর নেই ইউনিয়ন ভূমি অফিসারের

5

মেডিকেল-ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা, জানা গেল আবেদনের

6

১০০ আসনে প্রাথমিক মনোনয়ন ঘোষণা করতে যাচ্ছে এবি পার্টি

7

গোপালগঞ্জে কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত: রেহাই পাচ্ছেন না বোরকা পরা

8

গোপালগঞ্জের ক্রিকেটার প্রান্ত সিকদার গ্রেফতার: স্থানীয় ক্রি

9

ঢাকা–গোপালগঞ্জ সরাসরি রেল যোগাযোগের দাবিতে সোচ্চার গোপালগঞ্জ

10

গোপালগঞ্জে সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন আওয়ামী লী

11

গ্রাহকের জমানো টাকা তুলতে পারছেন না গোপালগঞ্জের ন্যাশনাল ব্য

12

ইতালির রোমের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড.

13

পানি পান করার এই ৪টি ভুল থেকে সাবধান, হতে পারে স্বাস্থ্যঝুঁক

14

ডাকসু নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষ, এখন ফলের অপেক্ষা

15

শহিদের সঙ্গে প্রেম-বিচ্ছেদের কারণ জানালেন কারিনা

16

ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন করতে গিয়ে জানলেন তিনি ‘মৃত’

17

ভিন্ন রূপে কেয়া পায়েল, নেটদুনিয়ায় চমক

18

গোপালগঞ্জে ভোটকেন্দ্রে ককটেল হামলা, আনসারসহ আহত ৩

19

বুবলীকে ‘পিনিক’–এ যেমন দেখা যাবে

20