ভয়েস অফ গোপালগঞ্জ ডেস্ক,
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার কাঠি ইউনিয়নের খেলনা গ্রামে ঘটেছে চাঞ্চল্যকর একটি ঘটনা। আসরের নামাজের পর মাদ্রাসার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা এক ছাত্রের ছবি তুলতে গিয়ে সন্দেহভাজন এক যুবককে আটক করেছে মাদ্রাসা ছাত্ররা।
সাক্ষীদের জানান, মাদ্রাসার সামনে শান্তভাবে দাঁড়িয়ে থাকা ছাত্রটির ছবি তুলে হেঁটে যেতে থাকলে ছাত্রটি তাকে থামিয়ে ছবি তোলার কারণ জানতে চান। প্রথমে "এমনি তুলেছি" বলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও অদূরে থাকা আরেক ছাত্র তাকে দাঁড়াতে বলেন। এরপর শক্তভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করলে যুবক কোনো সঠিক জবাব দিতে ব্যর্থ হন।
পরবর্তীতে সন্দেহ বাড়লে তাকে মাদ্রাসার ভেতরে নিয়ে গিয়ে মোবাইলে থাকা সেই ছবিটি মুছে ফেলতে বলা হয়। কিন্তু সে ফোন আনলক করতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে ছাত্ররা ফোনটি নিয়ে গ্যালারি চেক করলে দেখা যায়—ডজন ডজন আপত্তিকর ছবি, অসংখ্য নারীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কের প্রমাণ এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র।
আরও অবাক করা তথ্য হলো—তার পকেট থেকে দুটি ভিন্ন পরিচয় ও ভিন্ন ধর্মের দুইটি জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) উদ্ধার করা হয়।
হিন্দু পরিচয় অনুযায়ী: নাম: শ্রী জয় বিশ্বাস, পিতা: শ্রী গৌরাঙ্গ বিশ্বাস
মুসলিম পরিচয় অনুযায়ী: নাম: জয় শেখ, পিতা: মালেক শেখ
এ খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় মুরুব্বিরা ঘটনাটি 'নরমালাইজ' করার চেষ্টা করলেও মাদ্রাসা ছাত্ররা এবং একজন দায়িত্বশীল শিক্ষক তাকে ছেড়ে দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে ছাত্রদের উদ্যোগে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গোপালগঞ্জ জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
স্থানীয়দের দাবি—এ ধরনের ঘটনা সামাজিক নিরাপত্তা ও নৈতিকতার জন্য হুমকি। তারা অভিভাবকদের সন্তানদের প্রতি আরও নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানান।