নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : Jan 4, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

গোপালগঞ্জ শহরে ইজিবাইক–রিকশার দৌরাত্ম্যে জনভোগান্তি চরমে

ভয়েস অফ গোপালগঞ্জ ডেস্ক,

গোপালগঞ্জ শহরের প্রধান সড়কে ঢুকলেই চোখে পড়ে অদ্ভুত এক দৃশ্য। যেন কোনো ব্যস্ত মহানগরীর যানজট পেরিয়ে এসেছি। অথচ এটি একটি জেলা শহর। শহরের বাজার এলাকা থেকে পাচুড়িয়া মোড় পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার জুড়ে ব্যাটারি চালিত রিকশা ও ইজিবাইকের অবাধ চলাচলে প্রতিনিয়ত তীব্র যানজট দেখা দিচ্ছে। আর এর ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।

শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ইজিবাইক ও ব্যাটারি চালিত রিকশা পাশাপাশি চলাচল তো আছেই, তার সঙ্গে চলছে নিয়ম-শৃঙ্খলার বড় অভাব। যাত্রী ওঠা-নামা হচ্ছে চলন্ত রাস্তায়, চালকেরা দাঁড়িয়ে থাকছেন সড়কের মাঝখানে, আবার অনেক জায়গায় তিন–চারটি করে যানবাহন পাশাপাশি চলায় ঝুঁকির পাশাপাশি বাড়ছে যানজটও।

বিশেষ করে পাবলিক হল রোড, চৌরঙ্গী এলাকা, হাসপাতালে যাওয়ার সড়কসহ বেশ কিছু জায়গায় দিনের বেশিরভাগ সময়ই ধীরগতিতে গাড়ি চলতে দেখা যায়। অফিসগামী মানুষ থেকে শুরু করে স্কুল–কলেজের শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন।

শহরে নির্ধারিত পার্কিং ব্যবস্থা না থাকায় অধিকাংশ চালক রাস্তার দুই পাশে ইজিবাইক রেখেই যাত্রী তোলেন। এতে স্বাভাবিকভাবেই সংকুচিত হয়ে পড়ছে রাস্তাগুলো। ছোট একটা মোড় ঘুরতেও আটকে যাচ্ছে গাড়ি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কেউই যেন এই পরিস্থিতির দায়িত্ব নিতে চান না। ফলে দিনের পর দিন বেড়েই চলছে দুর্ভোগ।

পৌরসভার তথ্য মতে, শহরের সড়কব্যবস্থা সর্বোচ্চ চার হাজার ব্যাটারি চালিত রিকশা ও ইজিবাইক চলাচলের উপযোগী।কিন্তু বাস্তবে এর সংখ্যাটি এখন তার চেয়ে অনেক বেশি। লাইসেন্সপ্রাপ্ত যানবাহনের সংখ্যা রয়েছে মাত্র দেড় হাজারের মতো, বাকিগুলো চলছে বিনা নিয়ন্ত্রণে।

ট্রাফিক বিভাগের সার্জেন্ট জয় চক্রবর্তী জানান, “যানজট নিরসনে আমাদের হিমশিম খেতে হয়। তারপরও শহরকে শৃঙ্খলায় আনতে আমরা নিয়মিত কাজ করছি।”

গোপালগঞ্জ পৌরসভা কর্তৃপক্ষ বলেছেন, “সমস্যাটি আমরা জানি। ধাপে ধাপে পার্কিং ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

“দশ মিনিটের পথ যেতে লাগে আধা ঘণ্টা,” বললেন এক কলেজ ছাত্র রবিউল হোসেন। “রোগী নিয়ে হাসপাতালে যেতে গেলেও আটকে পড়তে হয়,” অভিযোগ হানান শেখ নামের এক ভুক্তভোগীর।

একদিকে মানুষের স্বল্প খরচের পরিবহন হিসেবে ইজিবাইক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। আবার অপরদিকে নিয়ন্ত্রণহীন চলাচল, পার্কিং–সংকট আর লাইসেন্স–জটিলতার কারণে শহরের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে মনে করছেন নগর–বিশেষজ্ঞেরা। আর সাধারণ মানুষ আশা করছেন, জনস্বার্থে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে যাচ্ছেন খালেদা জিয়া

1

শরীরচর্চা শিক্ষকদের তথ্যভান্ডার তৈরির নির্দেশনা

2

গোপালগঞ্জ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে ককটেল বিস্ফো

3

জাতীয় পার্টির ২৪৩ আসনে প্রার্থী ঘোষণা

4

প্রধান উপদেষ্টাকে মার্চে বেইজিং সফরে নিতে আগ্রহী চীন

5

যেসব কারণে রাগ নিয়ন্ত্রণ জরুরি

6

গোপালগঞ্জে কাভার্ড ভ্যানের চাপায় মোটরসাইকেল চালক নিহত

7

তারেক রহমান ‘অতি শিগগিরই’ ফিরবেন : সালাহউদ্দিন আহমদ

8

চাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের ইশতেহার শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাড়া ফ

9

দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ কোটালীপাড়া নৌকা বাইচে উৎসবের আমেজ

10

যেসব কারণে মিষ্টি বেশি খেতে মন চায়

11

দ্রুত ওজন কমাতে রাতের খাবার কখন খাবেন, জানালেন পুষ্টিবিদ

12

হাদির মরদেহ কোথায় নেওয়া হবে, জানাল ইনকিলাব মঞ্চ

13

প্রথমবারের মতো কোনো বাংলাদেশি নির্বাচিত হলেন ইউনেস্কোর সভাপত

14

উলপুর ইউনিয়নের কুখ্যাত চাঁদাবাজ আলমগীর ফকির গ্রেফতার: এলাকায়

15

উপদেষ্টা হোক বা রাজনীতিবিদ, কাউকেই ছাড় নয় : সারজিস

16

জাকসু নির্বাচনে ভোট গণনায় দেরির কারণ জানাল ইসি

17

এইচএসসি ফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ ১৬ অক্টোবর

18

আগামী ফেব্রুয়ারিতেই জাতীয় নির্বাচন: প্রধান উপদেষ্টা

19

করোনাকালে বাড়লেও ক্রমেই কমছে স্টার্টআপে বিনিয়োগ, নীতি সহজ কর

20