নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : Mar 1, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক,

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত হয়েছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। রোববার (১ মার্চ) ইরানি বার্তাসংস্থা তাসনিম ও ফারস নিউজ তার মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে।

খামেনির মৃত্যুতে ইরানে ৭ দিনের সরকারি ছুটি ও ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।

শনিবার সকালে তার প্রাসাদকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইসরায়েলি ও মার্কিন সেনারা। এরপর রাতের দিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রথমে খামেনির মৃত্যুর তথ্য জানান। পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও খামেনির নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেন।

কিন্তু ইরানের পক্ষ থেকে বিষয়টি প্রথমে স্বীকার করা হয়নি। অবশেষে আজ সকালে দেশটি জানিয়েছে, তাদের প্রধান ধর্মীয় নেতা নিহত হয়েছেন।

মৃত্যুর আগ পর্যন্ত অন্যায় ও শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। ১৯৮৯ সালে ইরানের ইসলামী বিপ্লবের নেতা রুহুল্লা খোমেনিরর মৃত্যুর পর সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব নেন তিনি। এর আগে তিনি ১৯৮০-এর দশকে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৩৯ সালে ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে জন্মগ্রহণ করেন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। তার বাবা একজন ধর্মীয় নেতা ছিলেন। ১৯৬২ সালে খামেনি আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির নেতৃত্বে বিরোধীদলীয় আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন।

১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামী বিপ্লবের পর আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি দেশটির উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী হন। ইরানের অভিজাত বাহিনী ইসলামী বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) গড়ে তুলতে আলী খামেনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।

১৯৮৯ সালে খোমেনির মৃত্যুর পর ইরানের অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্ট (ধর্মীয় নেতাদের একটি পর্ষদ) আলি খামেনিকে দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা নির্বাচন করেন; যদিও তাকে দায়িত্ব গ্রহণের সুযোগ দিতে সংবিধান সংশোধন করার প্রয়োজন পড়ে।

দেশের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করার পর থেকে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ইরানের রাজনীতি ও সশস্ত্র বাহিনীর ওপর দৃঢ় নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছিলেন। তার শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় দেখা দেওয়া নানা চ্যালেঞ্জ তিনি কঠোর হাতে দমন করেছেন।

দেশের বাইরের বিষয়েও নিয়মিতভাবে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। নিজ দেশের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্র ইসরায়েলসহ অন্য পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে তিনি কখনো মাথানত করেননি।

আলি খামেনির সময় ইরানের সাতজন প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ যুদ্ধ, আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা এবং পশ্চিমা দেশগুলোর ইরাককে সমর্থন; এসব অভিজ্ঞতা খামেনির মধ্যে পশ্চিম, বিশেষত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি গভীর অবিশ্বাস তৈরি করে। তার শাসনামলে ইরানকে সবসময় বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ হুমকির মুখে থাকা রাষ্ট্র হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।

খামেনির সময়েই ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী একটি শক্তিশালী সামরিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানে রূপ নেয়। আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের কৌশল হিসেবে তিনি প্রতিরোধ অক্ষ গড়ে তোলেন।

এই জোটে লেবাননের হিজবুল্লাহ, ফিলিস্তিনের হামাস, ইয়েমেনের হুথি এবং ইরাকের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই কৌশলের অন্যতম স্থপতি ছিলেন কুদস বাহিনীর কমান্ডার কাসেম সোলেইমানি, যিনি ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত হন।

২০০৯ সালের নির্বাচনের পর সবুজ আন্দোলন, ২০১৯ সালের জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি-বিরোধী বিক্ষোভ এবং ২০২২ সালে মাহসা আমিনির মৃত্যুকে ঘিরে দেশজুড়ে প্রতিবাদ; এসব ঘটনায় তার শাসন কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো কঠোর দমন-পীড়নের অভিযোগ তোলে।

২০১৫ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির আলোচনার উদ্যোগে পারমাণবিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও ২০১৮ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে সেই চুক্তি থেকে প্রত্যাহার করেন। এরপর ইরান আবারও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ জোরদার করে।

২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়। প্রায় দুই সপ্তাহের সংঘাতে অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং যুক্তরাষ্ট্রও সরাসরি অভিযানে যুক্ত হয়।

২০২৬ সালেও ইরানে হামলার হুমকি দিতে থাকেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। অবশেষে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বড় আকারের সামরিক অভিযানের ঘোষণা দেন তিনি। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই খামেনি নিহত হওয়ার খবর আসে।

খামেনির মৃত্যু ইরানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ, আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য এবং যুক্তরাষ্ট্রন-ইসরায়েল-ইরান সম্পর্কের ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

সূত্র : বিবিসি, আল-জাজিরা

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

চাকসুতে ২৬ পদের ২৪টিতেই শিবিরের জয়লাভ

1

জাকসু নির্বাচনে শিবির ছাড়া যারা বিজয়ী

2

গোপালগঞ্জ-টেকেরহাট মহাসড়কে ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আশ্রয়ক

3

গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমির হামজাসহ

4

ভোটের জোট: আসন সমঝোতা শেষ পর্যায়ে

5

একাদশে ভর্তির তৃতীয় ধাপের আবেদন ৩১ আগস্ট থেকে

6

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো সেকশনে ভয়াবহ আগুন

7

এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের সম্ভাব্য সময় জানাল শিক্ষা বোর্ড

8

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে পরকীয়ার জেরে চাচীকে নিয়ে পালালো ভাত

9

হাসপাতালে খালেদা জিয়া কেমন আছেন, জানালেন ডা. জাহিদ

10

গোপালগঞ্জের মধুমতী নদীতে জয়নগর ফেরিঘাটের উদ্বোধন

11

বিএনপির প্রার্থী তালিকায় যেসব হেভিওয়েট নেতাদের নাম নেই

12

লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে চতুর্মুখী দ্বন্দ্ব

13

ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করলেন তারেক রহমান

14

গোপালগঞ্জে দরপত্র ছাড়া বিদ্যালয়ের টিনশেড বিক্রি তদন্তে তিন

15

স্থানীয় সরকার নয়, জাতীয় নির্বাচন আগে চায় বিএনপিসহ বিভিন্ন দল

16

স্টাম্প ভাঙলেও শানাকাকে আউট দেননি আম্পায়ার, কী আছে নিয়মে

17

মেডিকেল-ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা, জানা গেল আবেদনের

18

মির্জা ফখরুলের সঙ্গে জাতিসংঘ প্রতিনিধি গোয়েন লুইসের বৈঠক

19

দেশে পিআর পদ্ধতি সম্পর্কে মানুষের ধারণা নেই : সেলিমুজ্জামান

20