অন্তর হোসেন পিয়াস,
ক্রাইম রিপোর্টার, ভয়েস অফ গোপালগঞ্জ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনকে ঘিরে গোপালগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গন যখন সরগরম, ঠিক সেই সময় দল বদলের গুঞ্জনের মধ্যেই চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের নেত্রী সুবর্ণা ঠাকুর। বিষয়টি স্থানীয় বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনীত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
জানা গেছে, সুবর্ণা ঠাকুর কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। সম্প্রতি তিনি বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে ফরম সংগ্রহ করেন। ওড়াকান্দির হরিচাঁদ ঠাকুর পরিবারের সদস্য হিসেবে তার একটি সামাজিক পরিচিতিও রয়েছে। তবে সুবর্ণা ঠাকুর আওয়ামী লীগের কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন কি না, এমন প্রশ্ন করলে তিনি কৌশলে এড়িয়ে যান।
এদিকে বিএনপি থেকে সংরক্ষিত মনোনয়ন চূড়ান্তের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সুবর্ণা ঠাকুরের দুই-একটি ছবি ছড়িয়ে পড়েছে; যেখানে একটিতে যেখানে একটি ছবিতে তাকে আওয়ামী লীগের লোগো সংবলিত ফাইল হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
এছাড়া গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের ২০২৩ সালের কমিটিতে তিনি বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তৎকালীন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জিএম সাহাবউদ্দিন আজম স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তিও সামাজিক মাধ্যমে দেখা যায়।
তবে আওয়ামী লীগের পদে থেকে হঠাৎ বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া নিয়ে স্থানীয় বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। একাধিক নেতাকর্মী অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন দলের সঙ্গে থেকে আন্দোলন-সংগ্রামে যুক্ত ত্যাগী কর্মীদের মূল্যায়ন না করে অন্য দল থেকে আসা কাউকে সরাসরি মনোনয়ন দেওয়া হতাশাজনক। এতে দলীয় শৃঙ্খলা ও মনোবলে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে মুঠোফোনে সুবর্ণা ঠাকুরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিএনপি থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও মনোনয়ন চাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে আওয়ামী লীগের উপজেলা কমিটিতে থাকার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। পরে ব্যস্ততার অজুহাতে ফোনের সংযোগ কেটে দেন।
মন্তব্য করুন