নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : Oct 2, 2025 ইং
অনলাইন সংস্করণ

লাল শাপলায় রঙিন গোপালগঞ্জের বিল

ভয়েস অফ গোপালগঞ্জ ডেস্ক,

ভোরের আকাশে যখন হালকা লাল আভা ছড়িয়ে পড়ে, তখন গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়ার বিস্তীর্ণ বিল যেন জেগে ওঠে রঙিন স্বপ্নে। পানির বুক জুড়ে তখনও নিস্তব্ধ শাপলার কুঁড়ি। সূর্যের প্রথম কিরণ ছুঁয়েই তারা একে একে খুলে দেয় রঙিন মুখ। মুহূর্তেই বিলজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে লাল শাপলার সমারোহ, যেন প্রকৃতি নিজ হাতে বিছিয়ে দিয়েছে লাল গালিচা।

নৌকায় ভেসে এই ভোরের দৃশ্য দেখা মানেই অন্য এক জগতে হারিয়ে যাওয়া। চারপাশ নিস্তব্ধ, কেবল পাখির ডাক আর পানির মৃদু ঢেউয়ের শব্দ। সেই নীরবতার মাঝেই ধীরে ধীরে ফুটে ওঠে লাখো শাপলা। দূর থেকে মনে হয়, পুরো বিল লালিমায় ভেসে যাচ্ছে।

স্থানীয়রা বলেন, শাপলার আসল সৌন্দর্য দেখতে হলে ভোরবেলায় আসতেই হবে। দুপুর নাগাদ ফুলগুলো বন্ধ হয়ে যায়, মুছে যায় রঙিন মায়া। তাই ভোরেই মানুষ নৌকা নিয়ে বের হন—কেউ ফুল সংগ্রহে, কেউবা শুধু প্রকৃতির এই বিস্ময়কর সৌন্দর্য উপভোগে।

ঢাকা থেকে আসা পর্যটক আসলাম শেখ জানালেন, “ভোর ৪টায় নৌকা নিয়ে বের হয়েছিলাম। সূর্যের আলো ফুটতেই একসঙ্গে এত শাপলা ফুটতে দেখে মনে হলো, প্রকৃতি আমার চোখের সামনে নতুন করে জন্ম নিচ্ছে।”

শাপলার ভোর শুধু চোখের আরাম নয়, মনেও আনে এক অদ্ভুত প্রশান্তি। শহরের কোলাহল থেকে দূরে, প্রকৃতির এমন মহিমান্বিত আয়োজন সত্যিই অনন্য অভিজ্ঞতা।

বর্ষায় জমে থাকা পানিতে প্রাকৃতিকভাবেই জন্ম নেয় এসব শাপলা। স্থানীয়দের মতে, অন্তত ২৫টির মতো বিল এখন ভরা লাল শাপলায়। সাধারণত এগুলো এক ফসলি জমি। বোরো ধান কাটার পর মাঠ ভরে ওঠে বৃষ্টির পানিতে, আর সেই পানিতেই প্রকৃতির দান হিসেবে জন্ম নেয় হাজারো শাপলা।

প্রতিদিনই ঢাকা, খুলনা, ফরিদপুরসহ বিভিন্ন জেলা থেকে পর্যটকরা আসছেন পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে। নৌকায় ভ্রমণের ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন স্থানীয় যুবকেরা। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ আবার নিশ্চুপ হয়ে তাকিয়ে থাকছেন শাপলার দিকে। পর্যটকদের ভাষায়, “শহরের কৃত্রিম পার্ক নয়, এখানে প্রকৃতির আসল রূপ আছে। না দেখলে বোঝা যায় না, প্রকৃতি কত উদারভাবে তার রঙ ছড়িয়ে দিতে পারে।”

গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মুহম্মদ কামরুজ্জামান জানান, লাল শাপলার বিলকে ঘিরে পর্যটনবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। দর্শনার্থীদের জন্য বাড়ানো হবে নানা সুযোগ-সুবিধা।

তবে এই সৌন্দর্য চিরকাল থাকে না। পানি শুকিয়ে গেলে কৃষকেরা আবার নেমে পড়েন ধান চাষে, বিল ভরে ওঠে সোনালি ধানে। তাই লাল শাপলার সমারোহ উপভোগ করতে হলে এখনই যেতে হবে টুঙ্গিপাড়া আর কোটালীপাড়ার বিলগুলোয়। যতদিন পানি থাকবে, ততদিনই প্রকৃতির এ লাল গালিচায় ভেসে যাবে মানুষের মন।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কবরস্থান থেকে রান্নাঘর, সবখানেই পানি, দুর্ভোগে টুঙ্গিপাড়ার

1

যেকোনো সময় সচল হতে পারে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম: প্রধান উপদেষ

2

গোপালগঞ্জে পুকুরে ডুবে শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু

3

গোপালগঞ্জ-টেকেরহাট মহাসড়কে বেপরোয়া ট্রাকচালকের ধাক্কায় ভ্য

4

নতুন বছরের শুরুতেই যেসব ফোনে বন্ধ হচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপ

5

সিনেমার নায়ক থেকে জনতার নেতা: থালাপতি বিজয়ের রাজনৈতিক অভিষেক

6

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপির নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন

7

কানায় কানায় পূর্ণ ট্রেনের ছাদ, ভোটের তাড়া

8

জেন–জিরা ক্যারিয়ারের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছে কীভাবে

9

হাদির মরদেহ কোথায় নেওয়া হবে, জানাল ইনকিলাব মঞ্চ

10

ফাইনালে মুখোমুখি ভারত-পাকিস্তান : সম্ভাব্য একাদশ ঘোষণা

11

গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ

12

গোপালগঞ্জে দরপত্র ছাড়া বিদ্যালয়ের টিনশেড বিক্রি তদন্তে তিন

13

আজ মহাঅষ্টমী, হবে কুমারী পূজা

14

“কালের কণ্ঠ”-এর কোটালীপাড়া প্রতিনিধিকে মারধর, সাংবাদিক মহলে

15

বাংলাদেশকে বড় ‘সুখবর’ দিল যুক্তরাজ্য

16

গোপালগঞ্জে অজ্ঞাত রোগে টমেটো গাছ মারা যাচ্ছে, দিশেহারা কৃষক

17

শহিদের সঙ্গে প্রেম-বিচ্ছেদের কারণ জানালেন কারিনা

18

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মৃত্যুবরণ করেছেন

19

জলাবদ্ধতায় বন্ধের মুখে গোপালগঞ্জের জামিয়া কারিমিয়া আরাবিয়া ম

20