নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : Dec 15, 2025 ইং
অনলাইন সংস্করণ

একসঙ্গে জন্ম, একসঙ্গে স্বপ্ন—মেডিকেলে চান্স পেলেন যমজ দুই বোন

ভয়েস অফ গোপালগঞ্জ ডেস্ক,

একই দিনে জন্ম, একই পথে বেড়ে ওঠা, একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা—আর শেষ পর্যন্ত একই সাফল্য। যমজ দুই বোন মুতমাইন্না সারাহ ও মুমতাহিনা সামিহা এবার একসঙ্গে মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। যদিও প্রতিষ্ঠান আলাদা, তবে সাফল্যের গল্প অভিন্ন।
মুতমাইন্না সারাহ ভর্তি হতে যাচ্ছেন ঢাকা মুগদা মেডিকেল কলেজে, আর মুমতাহিনা সামিহা সুযোগ পেয়েছেন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজে।

দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাট উপজেলার সিংড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাজ্জাদ হোসেন ও দিনাজপুর জেলা স্কুলের ইংরেজি বিভাগের সিনিয়র শিক্ষক তাহারিমা আকতার দম্পতির যমজ কন্যাদের এ সাফল্যে পরিবার, স্বজন ও এলাকাজুড়ে বইছে আনন্দের জোয়ার।

চেহারা-গড়ন ও আচরণে যেমন মিল, তেমনি শিক্ষাজীবনের প্রতিটি ধাপেও ছিল যুগল পথচলা। প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক—সব স্তরেই তারা পড়াশোনা করেছেন একই প্রতিষ্ঠানে। এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় দুজনই সব বিষয়ে জিপিএ–৫ অর্জন করেন। শিক্ষাজীবনে তারা দিনাজপুর গভর্নমেন্ট গার্লস হাইস্কুল ও দিনাজপুর সরকারি কলেজের কৃতী শিক্ষার্থী ছিলেন।

নিজেদের সাফল্যের রহস্য জানতে চাইলে সারাহ ও সামিহা অভিন্ন কণ্ঠে জানান—তারা কখনোই দিনে ১৮–২০ ঘণ্টা পড়াশোনার চাপ নেননি। বরং নিয়ম মেনে, মনোযোগ দিয়ে এবং বুঝে পড়াশোনাকেই গুরুত্ব দিয়েছেন। কোনো দিন ক্লাসে অনুপস্থিত থাকেননি। শিক্ষকদের প্রতিটি কথা মনোযোগ দিয়ে শুনে লিখে রাখতেন এবং বাড়িতে ফিরে তা পুনরায় পড়তেন। এই নিয়মানুবর্তিতাই তাদের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।

মেয়েদের সাফল্যে ভীষণ উচ্ছ্বসিত মা তাহারিমা আকতার বলেন,
“আমাদের এক ছেলে ও দুই মেয়ে। বড় ছেলে তাহমীদ বিন সাজ্জাদ বর্তমানে রংপুর মেডিকেল কলেজের শেষ বর্ষের ছাত্র। যমজ দুই মেয়েও ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় ভীষণ মনোযোগী।”

বাবা সাজ্জাদ হোসেন বলেন,
“ছেলের মতো যমজ দুই মেয়েও সব সময় পড়াশোনায় প্রতিযোগিতামূলক ছিল। কেউ এক–দুই নম্বর কম পেলেই পরের পরীক্ষায় সে আরও ভালো করার চেষ্টা করত। এইচএসসি পাসের পর দুজন একসঙ্গে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছে, একে অপরকে সহায়তা করেছে। বাবা হিসেবে এমন সাফল্য দেখা সত্যিই গর্বের।”

যমজ দুই বোনের এই অর্জন শুধু পরিবারের নয়, বরং দিনাজপুরবাসীর জন্যও এক অনুপ্রেরণার গল্প—যেখানে নিয়ম, নিষ্ঠা আর পারস্পরিক সহযোগিতাই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

একাদশে ভর্তিতে কোনো শিক্ষার্থী পায়নি ৩৭৮টি কলেজ

1

চোখ দেখেই জানা যাবে শরীরে কী রোগ

2

ভালোবাসার কথা

3

গোপালগঞ্জে প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ উপলক্ষে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

4

গোপালগঞ্জ সাংবাদিক ইউনিয়নের নবগঠিত কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠ

5

অতীতের রাষ্ট্রপরিচালকেরা দুর্নীতি করে আঙুল ফুলে বটগাছ হয়েছেন

6

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বাসের ধাক্কায় স্কুলছাত্রীর মর্মান্

7

সম্পাদকীয়: মানুষের জীবন তাহার কর্মফলেরই ধারাবাহিকতা

8

শহিদের সঙ্গে প্রেম-বিচ্ছেদের কারণ জানালেন কারিনা

9

একাদশে ভর্তির তৃতীয় ধাপের আবেদন ৩১ আগস্ট থেকে

10

স্ক্রিনশট ফাঁস করে সতর্কবার্তা দিলেন নুসরাত ফারিয়া

11

সুন্দরবনে আবারও বাঘের দেখা পেলেন পর্যটকরা

12

প্রাথমিকে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

13

প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন তারেক রহমান, বিরোধী দলে জামায়াত

14

রমজানেই ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী দেবে সরকার

15

ডাকসু নির্বাচনে সেনাবাহিনীর কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই : আইএসপিআর

16

জাকসু নির্বাচনে প্যানেল ঘোষণা করল ছাত্রদল

17

আজ মহানবমী, বিদায়ের সুরে মণ্ডপে বিষাদের ছায়া

18

গোপালগঞ্জে শিশুর লাশ উদ্ধার, স্কেটিং জুতা না পেয়ে অভিমানে আত

19

গোপালগঞ্জের তিনটি আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন যারা

20