ভয়েস অফ গোপালগঞ্জ ডেস্ক,
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ১১ দলীয় জোট থেকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সরে দাঁড়ানোর পর জরুরি বৈঠকে বসেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠক শেষে জামায়াতে ইসলামী’র সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের সাংবাদিকদের জানান—
জামায়াত এখনো শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ইসলামী আন্দোলনের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছে।
তিনি বলেন, “ইসলামী আন্দোলন জোটে না ফিরলে বাকি ৪৭টি আসনে জোটের অন্য দলগুলোই প্রার্থী চূড়ান্ত করবে।”
বৈঠকে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
জুবায়ের জানান, আজকের নির্বাহী কমিটির বৈঠকে নির্বাচনী সফরসূচি, নীতিনির্ধারণী কৌশল, এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে ২০ জানুয়ারি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি কর্নেল (অব.) অলি আহমেদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলায় নিন্দা জানিয়ে মামলা প্রত্যাহারেরও দাবি জানান।
এর আগে শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এককভাবে নির্বাচন করার ঘোষণা দেয়। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়ায় জুবায়ের বলেন—
“জামায়াত আদর্শচ্যুত হয়নি, কাউকে অসম্মানও করেনি।”
তিনি দাবি করেন,
১০ দল মিলে ইতোমধ্যে ২৫৩টি আসনের বণ্টন চূড়ান্ত করা হয়েছে।
বাকি ৪৭টি আসন এবং ইসলামী আন্দোলনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে জোটের লিয়াজোঁ কমিটি।
জুবায়ের আরও বলেন,
“আসন সমঝোতা বা রাজনৈতিক আলোচনায় কাউকে চাপ প্রয়োগ করা হয়নি। বরং স্বচ্ছতা, বাস্তবতা ও সম্মান বজায় রেখে একাধিক জরিপ বিশ্লেষণ করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
তার ভাষ্য অনুযায়ী, মাঠপর্যায়ের শক্তি, প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতা, প্রতিদ্বন্দ্বী দলের অবস্থানসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ৮-১০টি জরিপের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
তিনি জানান, কয়েকটি বিষয়ে মতভিন্নতার কারণে আলোচনা দীর্ঘায়িত হলেও ধারাবাহিক বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়গুলো নিষ্পত্তির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে জোট।